মোবাইল ফোন হচ্ছে বর্তমান যুগের সবচেয়ে আধুনিক একটি ডিভাইস। যার মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংযোগ স্থাপন করা যায়। এবং বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এখন প্রায় সবার কাছে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে। আর এ মোবাইল ফোন গুলোতে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আসাতে অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে অনেক মোবাইল ফোনে এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি রয়েছে।যার ফলে একটি মোবাইল ফোনে অনেক প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। আর এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম মূলত একটি সফটওয়্যার । যা আমাদের মোবাইল ফোন গুলোতে ইন্সটল করা থাকে।





অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কি ? 

আপনি একবার ভেবে দেখুন তো, যে আপনি এই অ্যাপস ছাড়া আপনার স্মার্টফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন কিনা।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট মূলত, কোন একটি অ্যাপস তৈরি করার পর সেটিকে ডেভলপ করা। বর্তমানে এই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যার ফলে এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর প্রয়োজনীয়তা ও দিন দিন বাড়ছে । আমরা যারা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করি তারা হয়তো বা জানি যে একটি স্মার্টফোনের প্রাণ হচ্ছে এই অ্যাপস। এই অ্যাপ ছাড়া একটি স্মার্টফোন প্রায় অচল । আমরা একটি স্মার্টফোনের মধ্যে যা কিছু করতে চাই না কেন আমাদের অ্যাপস এর প্রয়োজন পড়বে। আমরা যদি কোন কিছু ইন্টারনেটে খুঁজতে চাই তাহলে আমাদের ব্রাউজিং অ্যাপস এর প্রয়োজন । যদি ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে ফেসবুক অ্যাপস এর প্রয়োজন । এবং মিউজিক শুনতে চাইলে মিউজিক অ্যাপস এর প্রয়োজন।এক কথায় আমরা যা কিছু করি না কেন আমাদের স্মার্টফোনের মধ্যে আমাদের অ্যাপস এর  প্রয়োজন পড়বে। অনেক সময় আমরা আমাদের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে গুগল প্লে স্টোর থাকে নানা ধরনের অ্যাপস ডাউনলোড করে থাকি। যারা এই অ্যাপস গুলো বানিয়ে প্লে স্টোরে আপলোড করে রেখেছে তাদেরকে মূলত অ্যাপস ডেভেলপার বলা হয়ে থাকে। আর এই অ্যাপ ডেভেলপাররা মাসে 1 থেকে 2 লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে ঘরে বসে। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর খুঁটিনাটি আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব । তাই আপনি যদি এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট করে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আজকেরে এই আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন।



অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডিজাইন কি ? 

একটি অ্যাপস এর বাহ্যিক যে দিকটি ডিজাইন করা হয়ে থাকে সেটি কে মূলত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডিজাইন বলা হয়। আর যারা এই অ্যাপস টিকে ডিজাইন করে থাকে তাদেরকে বলা হয় অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডিজাইনার। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট এর মধ্যে কিন্তু অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমন আপনারা জানেন যে একটি অ্যাপস এর যে বাহ্যিক দিক সেটিকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডিজাইন বলা হয় । আর অ্যাপস এর ভিতর যেসব ফাংশনালিটি থাকে মানে অ্যাপসটি কিভাবে কাজ করবে কিভাবে চলবে এসব কিছু হচ্ছে ডেভলপমেন্ট এর কাজ । আশা করছি আপনারা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডিজাইন এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পেরেছেন।



অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে কি কি প্রয়োজন ?

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে হলে আপনাদের যা যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, একটি ভাল মানের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। এবং আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপের রেম ৮ জিবি থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। এরপর আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ থাকতে হবে এর পাশাপাশি 64 bit হতে হবে। এসব কিছু আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মধ্যে থাকলে সবচেয়ে ভালো হয় অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর ক্ষেত্রে। আর যদি আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ টি উইন্ডোজ 7 বা 8
এবং ram 2gb অথবা 4 জিবি সাথে ৩২ bit এর হয় তার পরেও কোন সমস্যা নেই আপনি কাজ করতে পারবেন। এরপর আপনাদের যা প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে ইন্টারনেট কানেকশন। আর এই  ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া কিন্তু আপনারা এন্ড্রয়েড এপস ডেভেলপমেন্ট একেবারে করতে পারেন না । আপনাদের ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যই অবশ্যই থাকতে হবে । কারণ আপনি যখন কোনো একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর প্রজেক্টে কাজ করবেন তখন সেখানে নানা ধরনের gradle , API গুলো build হতে থাকবে অটোমেটিকলি । আর আপনার যদি ইন্টারনেট কানেকশন না থাকে তাহলে কিন্তু এ কাজগুলো সম্পন্ন হবে না।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভলপমেন্ট এর জন্য যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে তা হচ্ছে 
Java 
XML
জাভা হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর জন্য অফিসিয়াল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।এই জাভা দিয়ে আপনি অ্যাপস তৈরি করলে সে অ্যাপসটি নানা ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে রান করা সম্ভব।এই Java দিয়ে আসলে একটি অ্যাপস এর ভিতর নানা ধরনের ফাংশনালিটি জিনিস তৈরি করা হয় । আর XML কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ না । এটি একটি মারকুপ লঙ্গুয়েজ । আপনাদের মধ্যে যারা HTML জানেন । তারা এই xml খুব সহজেই শিখে নিতে পারবেন। কারণ এই HTML এবং XML প্রায় একই । XML দিয়ে মূলত একটি অ্যাপস এর layout ডিজাইন করা হয়ে থাকে । যে আসলে অ্যাপসটির ভেতরে ইন্টারফেস দেখতে কেমন হবে অ্যাপসটির ডিজাইন কেমন হবে এসব কিছু তৈরি করা হয় এই XML এর মাধ্যমে । আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য আপনাদের কি কি প্রয়োজন পড়বে ।

1. কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
2. ইন্টারনেট কানেকশন
3. Java Programming language
4. XML markup language.



কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে ইনকাম করবেন।

আজকে আমি আপনাদের দেখাবো যে কিভাবে আপনারা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে ইনকাম করবেন মাসে
1-2 লক্ষ টাকা । বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা অনেক। আর এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদার পেছনে কারণ হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন। যত দিন যাচ্ছে ততই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।আর এই স্মার্টফোনগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজন অ্যাপসের।আর যারা এই অ্যাপস গুলো তৈরি করে থাকে তাদের অ্যাপস ডেভেলপার বলা হয়ে থাকে। অ্যাপস ডেভলপাররা অনেক ভাবে টাকা ইনকাম করতে পারে । প্রথমত গুগল এডমোব এর সাহায্যে অ্যাপস এর ভেতর এড বসিয়ে সেই অ্যাপস টিকে Google Play Store এ সাবমিট করার মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে। এবং দ্বিতীয়তো নানা ধরনের অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ইনকাম করতে পারে। এবং তৃতীয়তঃ কোন একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারে।



Google Play Store এ কিভাবে অ্যাপ সাবমিট করবেন ।

Google Play Store এ অ্যাপস সাবমিট করতে হলে আপনাদের একটি Google Play Store developer একাউন্টের প্রয়োজন। আর এই developer অ্যাকাউন্টটি করার জন্য আপনাকে প্রথমত 25 Dollar ব্যয় করতে হবে।
আপনার কাছে যদি ডলার না থাকে তাহলে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে Google Play Store developer console নামে একটি ভার্চুয়াল কার্ড পাবেন সেটির মাধ্যমে আপনি ডেভলপার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আর এই কার্ডের মূল্য ৩০০০ টাকার মতো যেটি আপনি বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে পরিশোধ করতে পারবেন । 
আপনারা যদি আপনাদের অ্যাপস টিকে Google Play Store
এ সাবমিট না করেন তাহলে কিন্তু আপনাদের অ্যাপস সবার কাছে পৌঁছাবে না। এবং যার ফলে আপনাদের অ্যাপস থেকে আপনারা তেমন একটা ইনকাম করতে পারবেন না । আর আপনারা যদি বেশি বেশি ইনকাম করতে চান তাহলে অবশ্যই একটি Google Play Store একাউন্ট খুলে সেখানে আপনার অ্যাপসগুলোকে সাবমিট করুন। Google Play Store এ অ্যাপস সাবমিট করার সময় আপনাদের অ্যাপস টিকে তারা কিছুদিন review করবে। এরপর যদি তাদের মনে হয় যে না এই অ্যাপসটি Google Play Store এ সাবমিট করা যাবে তা হলেই কিন্তু তারা অ্যাপস টি সাবমিট করবে।আর যদি তাদের মনে হয় যে না এই অ্যাপসটি গুগল প্লে স্টোরে সাবমিট করা যাবেনা তাহলে কিন্তু তারা এই অ্যাপস টিকে সাবমিট করবে না। তাই অ্যাপস তৈরি করার সময় ভালো মানের অ্যাপস তৈরি করবেন যাতে সেটি পরবর্তীতে আপনার উপকারে আসতে পারে এবং সেই অ্যাপস থেকে আপনি ইনকাম করতে পারেন।  



অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে মাসে কত টাকা ইনকাম করা সম্ভব । 

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট করে আপনি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন শুধুমাত্র ঘরে বসেই।যেমন আপনাদের বললাম আপনাদের অ্যাপস এর মধ্যে গুগল এডমোব এর সাহায্যে এড বসিয়ে গুগল প্লে স্টোরে সাবমিট করে আপনারা সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের অ্যাপস যত বেশি ডাউনলোড হবে এবং যত বেশি ইউজার এটিকে ইউজ করবে তত বেশি আপনাদের ইনকাম। আরো দুটি পথ রয়েছে একটি হচ্ছে অনলাইন মার্কেটপ্লেস আর অন্যটি হচ্ছে কোন সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করা। এ দুটির মাধ্যমেও কিন্তু আপনারা ইনকাম করতে পারবেন। তবে গুগল প্লে স্টোর এর মাধ্যমে ইনকাম করার পদ্ধতিটি সবচেয়ে সহজ । কারণ এখানে আপনি আপনার অ্যাপস সাবমিট করে দিলেই আপনার ইনকাম হতে থাকবে। আপনাকে তেমন একটা কাজ এখানে করতে হবে না। যত আপনার অ্যাপস ডাউনলোড হবে ততো ইনকাম বাড়তে থাকবে।



অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর সবচেয়ে বড় সুবিধা গুলো কি ?

আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখেন তাহলে আপনার অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে। আপনাকে চাকরির জন্য তেমন একটা দুশ্চিন্তা করতে হবে না। আপনার ক্যারিয়ার অনেক ভালো একটা পজিশনে দাঁড়িয়ে যাবে।আপনি ঘরে বসেই কাজ করতে পারবেন এর জন্য আপনাকে বাইরে কোথাও যেতে হবে না। আপনি চাইলে যেকোনো একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করতে পারেন। এবং পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে পারেন। এবং আপনি অবসর সময়ে নিজের মন মত অ্যাপস বানিয়ে গুগল প্লে স্টোরে সাবমিট করে সেখান থেকেও ইনকাম করতে পারবেন।এককথায় আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখেন তাহলে আপনার অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। একটা রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে অন্য একটি রাস্তা আপনার জন্য খোলা থাকবে। তাই আপনাদের বলছি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখুন আর নিজের জীবন গড়ুন। বে ফালতু কোন অ্যাপস এর পিছনে দৌড়াবেন না। আপনারা হয়তো বা অনেক সময় দেখে থাকবেন যে এই অ্যাপসটি থেকে ইনকাম করুন দিনে ৫০০ টাকা কোন কাজ না করেই। এরকম অ্যাপস এর পিছনে দৌড়ে আপনাদের কোন লাভ নেই এগুলো সব ফেক । এরকম অ্যাপস থেকে যদি ইনকাম করা যেত তাহলে সবাই অ্যাপ থেকে ইনকাম করত অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট করত না। আশা করি আপনারা সবকিছু বুঝতে পেরেছেন ।

আজকের এই পোষ্ট থেকে আপনাদের যদি একটু হলেও উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই এটিকে শেয়ার করবেন । আর যদি কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন ।